Uncategorizedমোটিভেশন

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী

একদা এক এয়ারপোর্ট ক্লিনার তার কাজ শেষ করে বাহিরে দাঁড়িয়েছিলেন হঠ্যাৎ করে দেখলেন উপর দিয়ে হঠ্যাৎ করে একটা বিমান উড়ে যাচ্ছে।একদিন তিনি অন্য একটি বিমানের ককপিট পরিষ্কার করছিলেন কাজ করতে করতে একটা পর্যায়ে এসে হঠাৎ তিনি কয়েকটি বই দেখতে পান। বইয়ের মলাট উল্টিয়ে দেখেন বইয়ের কভারে লেখা, “কিভাবে বিমান চালাতে হয়-প্রথম খন্ড”!সেটা দেখে তিনি খুবই আগ্রহ নিয়ে বইটি হাতে নিলেন এবং কৌতূহল নিয়ে বইয়ের প্রথম পাতা উল্টালে সেখানে লেখা আছে কিভাবে বিমানের ইঞ্জিন চালু করতে হয়।আরেকটু পড়তে গিয়ে দেখেন বিমানেট লাল সুইটি অন করুন এবং তিনি দেখতে পান সম্পূর্ণ বিমান খালি,কেউ নেই।

চোখের সামনে সুন্দর খোলা রানওয়ে টা দেখে নিজকে আটককে রাখতে পারলেন না। বইয়ের কিছু টা অশং পড়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি বিমান টি চালাবেন।আর তখনই তিনি কিছু না ভেবেই ককপিটে থাকা লাল সুইচটা অন করে দিলেন।এবং ক্লিক করার সাথে সাথে সেই বিমান টি সেই সাথে সাথে ঘুরতে শুরু করলো।তখন তিনি আরও দেখলেন যে সে বিমানটির ডানায় থাকা পাখা দুটো কি সুন্দর করে উড়তে শুরু করলো এবং কানে ভেসে এলো বিমানের ইঞ্জিন এর শব্দ।সব আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিনি মনে মনে ভাবলেন আরে এ তো দেখি একদম পানির মতো সহজ। তিনি আবারও দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ল বইটির পরের পাতা উল্টিয়ে দেখতে পেলেন সেখানে লেখা আছে বিমান চালানোর জন্য কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন করুন নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সাথে সাথে অন করে দিলেন কেটে নিল সৃষ্টি আর এই বিমানটি দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করল।

তিনি তখন আরও উৎসাহ পেলে এরপর বইয়ের তৃতীয় পেইজে গিয়ে দেখলেন সেখানে লিখা রয়েছে বিমানটিকে উড়ানোর জন্য ককপিটের সবুজ সুইচটা অন করুন তিনি প্রচণ্ড উৎসাহে সবুজ সুইচটা অন করলেন আর সাথে সাথেই পাখির মত ডানা মেলে আকাশে উড়তে শুরু করল বিমানটি। আর সেটা দেখে তিনি এত আনন্দ যে মনে মনে ভাবছেন আজ কে সম্পূর্ণ আকাশটাই আমার।আজকে আমায় কে আটকাবে।প্রায় ২০ মিনিট আকাশে উড়ার পর তিনি বিমানটিকে নিচে নামানোর জন্য চিন্তা করলেন এবং তিনি তখন আবারও বইয়ের পাতা গুলো উল্টানো শুরু করলেন।এবার অবতরণ করানোর উপায় খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলেন একদম বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় আর সেই বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা লেখা ছিল তিনি তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। কারণ কি জানেন?

সেখানে লেখা ছিল, বিমান কিভাবে মাটিতে অবতরণ করবেন তা জানতে বাজার থেকে বইটির দ্বিতীয় খন্ড কিনে নিন।
একটু ভাবুন ত গল্পের শেষটা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। অবশেষে ক্ষনিকের ক্লিনার ২০০ টাকার বই পড়ে পাইলট হওয়ার ইচ্ছে ভাল ভাবেই পূরন হলো।আর এর উপহারসরূপ তিনি এবং আরেক পাইলট সাহেবকে নিয়ে বিমানটি মাটিতে অবতরন করেছিলেন এবং এর সাথেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তাহলে একটু বার ভাবুন ত সামান্য কয়েকটি লাইন পড়ে যদি কেউ বিমান চালাতে পারতো তাহলে বছরের পর বছর পড়ালেখা এবং ট্রেনিং করে পাইলট হওয়ার তো কোন দরকারই নেই। অল্প বিদ্যা অর্জন করে নিজেকে পাণ্ডিত্য ভাবা এবং মহা জ্ঞানী ভাবা এক ধরনের বোকামী।

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আসলে কিছুই জানে না অথবা কোন একটা বিষয়ে জানলেও তার জ্ঞানের পরিমান খুবই অল্প। তাই কোন বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না নিয়ে নিজেকে বড় পণ্ডিত ভাবাটা বড় বোকামী।তাই কোন বিষয়ে একটু জেনে কাজে নেমে পরলে তার ফল টা কখনো ভাল কিছু হবে না।বরং সেটা কারও কারও জীবনের ধ্বংসের কারনও হতে পারে।একজন নিরক্ষর ব্যাক্তির ছেয়ে একজন অল্প বিদ্যা জানা লোক অনেক ভয়ংকর।এজন্যই মনিষীরা বলেছেন সব সময় জ্ঞানের পিছনে দৌড়ুন তবে অতিরিক্ত জ্ঞানী সেজে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করবেন না।তা না হলে নিজের অজান্তে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Back to top button