অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী!

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী!

প্রবাদ আছে- অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। কেন ভয়ংকরী এটা প্রায়শ আমরা অনুধাবন করতে ভুলে যাই! চলুন একটা গল্পের মাধ্যমে এই প্রবাদের আসল মর্ম উদ্ধার করা যাক!

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী

একদা এক এয়ারপোর্ট ক্লিনার তার কাজ শেষ করে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে দেখলেন ওপর দিয়ে একটা বিমান উড়ে যাচ্ছে। একদিন তিনি অন্য একটি বিমানের ককপিট পরিষ্কার করছিলেন। কাজ করতে করতে একটা পর্যায়ে এসে হঠাৎ তিনি কয়েকটি বই দেখতে পান। বইয়ের মলাট উল্টিয়ে দেখেন বইয়ের কভারে লেখা, ‘কীভাবে বিমান চালাতে হয়-প্রথম খণ্ড‘।সেটা দেখে তিনি খুবই আগ্রহ নিয়ে বইটি হাতে নিলেন এবং কৌতূহল নিয়ে বইয়ের প্রথম পাতা উল্টালেন। সেখানে লেখা আছে কীভাবে বিমানের ইঞ্জিন চালু করতে হয়। আরেকটু পড়তে গিয়ে দেখেন বিমানের লাল সুইচটি অন করুন এবং তিনি দেখতে পান- সম্পূর্ণ বিমান খালি, কেউ নেই।

চোখের সামনে সুন্দর খোলা রানওয়েটা দেখে নিজকে আটকে রাখতে পারলেন না। বইয়ের কিছুটা অংশ পড়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি বিমানটি চালাবেন। আর তখনই তিনি কিছু না ভেবেই ককপিটে থাকা লাল সুইচটা অন করে দিলেন। ক্লিক করার সাথে সাথে সেই বিমানটি ঘুরতে শুরু করল। তখন তিনি আরও দেখলেন যে- সে বিমানটির ডানায় থাকা পাখা দুটো কি সুন্দর করে উড়তে শুরু করেছে এবং কানে ভেসে এলো বিমানের ইঞ্জিন এর শব্দ। সব আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিনি মনে মনে ভাবলেন আরে এ তো দেখি একদম পানির মতো সহজ। তিনি আবারও দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে বইটির পরের পাতা উল্টিয়ে দেখতে পেলেন সেখানে লেখা আছে বিমান চালানোর জন্য কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করুন নির্দেশনা অনুযায়ী! তিনি সাথে সাথে কম্পিউটার অন করে দিলেন। এরপর সেই বিমানটি দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করল।

আরও পড়ুন: বই এবং বই পড়া!

তিনি তখন আরও উৎসাহ পেলে এরপর বইয়ের তৃতীয় পেজে গিয়ে দেখলেন সেখানে লেখা রয়েছে বিমানটিকে উড়ানোর জন্য ককপিটের সবুজ সুইচটা অন করুন। তিনি প্রচণ্ড উৎসাহে সবুজ সুইচটা অন করলেন আর সাথে সাথেই পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে উড়তে শুরু করল বিমানটি। আর সেটা দেখে তিনি এত আনন্দিত হয়েছেন যে; মনে মনে ভাবছেন- আজকে সম্পূর্ণ আকাশটাই আমার। আজকে আমায় কে আটকাবে। প্রায় ২০ মিনিট আকাশে উড়ার পর তিনি বিমানটিকে নিচে নামানোর জন্য চিন্তা করলেন এবং তিনি তখন আবারও বইয়ের পাতাগুলো উল্টানো শুরু করলেন। এবার অবতরণ করানোর উপায় খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলেন একদম বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায়! আর সেই বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় যা লেখা ছিল, তিনি তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। কারণ কি জানেন?

সেখানে লেখা ছিল- বিমান কীভাবে মাটিতে অবতরণ করবেন তা জানতে বাজার থেকে বইটির দ্বিতীয় খণ্ড কিনে নিন!

একটু ভাবুন তো গল্পের শেষটা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। অবশেষে ক্ষণিকের ক্লিনারের ২০০ টাকার বই পড়ে পাইলট হওয়ার ইচ্ছে ভালো ভাবেই পূরণ হলো। আর এর উপহারস্বরূপ তিনি আরেক পাইলট সাহেবকে নিয়ে বিমানটিসহ মাটিতে অবতরণ করেছিলেন এবং এর সাথেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তাহলে এক বার ভাবুন তো সামান্য কয়েকটি লাইন পড়ে যদি কেউ বিমান চালাতে পারতো তাহলে বছরের পর বছর পড়ালেখা এবং ট্রেনিং করে পাইলট হওয়ার তো কোনো দরকারই নেই। অল্প বিদ্যা অর্জন করে নিজেকে পণ্ডিত ভাবা এবং মহাজ্ঞানী ভাবা এক ধরনের বোকামি।

আরও পড়ুন: ডিপ্রেশন কী এবং ডিপ্রেশন থেকে বের হবার উপায়?

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আসলে কিছুই জানেন না অথবা কোনো একটা বিষয়ে জানলেও তার জ্ঞানের পরিমান খুবই অল্প। তাই কোনো বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না নিয়ে নিজেকে মহাপণ্ডিত ভাবাটা বড়ো বোকামি। কোনো বিষয়ে অল্প একটু জেনেই কাজে নেমে পড়লে তার ফলটা কখনো ভালো কিছু হবে না। বরং সেটা কারও কারও জীবন ধ্বংসের কারণও হতে পারে। একজন নিরক্ষর ব্যক্তির চেয়ে একজন অল্প বিদ্যা জানা লোক অনেক ভয়ংকর। এ জন্যই মনীষীরা বলেছেন- সব সময় জ্ঞানের পেছনে দৌড়ান; তবে অতিরিক্ত জ্ঞানী সেজে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করবেন না। তা না হলে নিজের অজান্তে নিজের অনেক বড়ো ক্ষতি হয়ে যাবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Comment