এটিই কি তবে দারিদ্র সংকট?

এ পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের বসবাস। অবাক হওয়ার মতো একটি তথ্য হচ্ছে এ পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ লক্ষ শিশু না খেয়ে মারা যায়। ৮২২ মিলিয়ন বা ৮২ কোটি মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। প্রায় ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মানুষ নষ্ট পচা-বাসি খাবার খেয়ে জীবিত থাকে। এটিই কি তবে দারিদ্র সংকট?

প্রতিবছর আমাদের জন্য যত পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয় তার মধ্যে ৩০% খাবার আমরা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে অপচয় করি। হিসাব করলে তার পরিমাণ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মেট্রিক টন যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আবার এমন অনেক মানুষ পরিলক্ষিত হয় যারা কিনা তাদের অতিরিক্ত বা উচ্ছিষ্ট খাবার গুলো গরিব অসহায় মানুষকে খেতে না দিয়ে সেগুলোকে পচা-বাসি করে নিক্ষেপ করে ডাস্টবিনে। আমরা যদি এই ৩০% খাদ্য অপচয় না করি তার মাধ্যমে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন বা প্রায় ১৫ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান খুব সহজে দেওয়া সম্ভব। সুতরাং বলা যায় একজন মানবিক মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত আমাদের যত টুকু প্রয়োজন ততটুকু খাওয়া এবং খেয়াল রাখতে হবে খাবারের যেন অপচয় না হয়।

আরও পড়ুন: বই এবং বই পড়া!

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা খাও এবং পান করো কিন্তু কখনো খাদ্যের অপচয় করো না।’

মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত অপচয় সীমা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা। যদি আমরা এটা করতে সক্ষম হই তাহলে ইনশাআল্লাহ খাদ্যের অনেক বড়ো একটা ঘাটতি খুব সহজে পূরণ করতে সক্ষম হবো। বছর ঘুরে এলো মহাপবিত্র ও সর্বোত্তম মাস রমাজান। রমাজানের সময় আমরা রোজা রাখি মূলত এই কারণে যাতে আমরা ক্ষুধার ওপর জয়লাভ করতে পারি।আমাদের উচিত হবে অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ক্ষুধার এবং খাবারের অভাবটুকু উপলব্ধি করা।

রমাজানে আমাদের উচিত হবে নিজেদের নিকট আত্মীয় যারা গরিব অসহায় আছে তাদের এবং যারা অক্ষম তাদের যতটুকু সম্ভব খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া। যাকাত-ফিতরা হিসেবে যেই পরিমান টাকা আমাদের ওপর ন্যস্ত তা গরিব অসহায়দের মাঝে সুষম বন্টণ নিশ্চিত করে দেওয়া। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে সুষমভাবে যাকাত ফিতরা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে পৃথিবী থেকে দারিদ্র বিমোচন সম্ভবপর হবে না।

পবিত্র এই মাসে আমাদের প্রতিজ্ঞা করা উচিত সাহায্য সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আমরা একে অন্যের পাশে থেকে সাহায্যের হাতটুকু বাড়িয়ে দেবো।

এটিই কি তবে দারিদ্র সংকট?

Leave a Reply

Back to top button