কীভাবে ব্লগিং শুরু করবেন?

কীভাবে ব্লগিং শুরু করবেন?

ব্লগিং হল একটি মুক্ত পেশা যেখানে আপনার ইচ্চা মতো  আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতে পারবেন। আর সেখান থেকে আপনি ভিজিটরস এনে একটা নির্দিষ্ট পরিমান আর্নিং আনতে পারবেন ওই ভিজিটরস আর পার ক্লিকের ওপর আর্নিং টা কীভাবে আসবে সেটা বলতে গেলে অনেকটা সময় লাগবে! তাই আজকের পোস্টে আমরা শুধু আলোচনা করব- কীভাবে ব্লগিং শুরু করবেন সে বিষয়ে।

কীভাবে ব্লগিং শুরু করবেন – সেটা জানার জন্য আমরা কয়েকটি স্টেপ বলতে পারি:

স্টেপ গুলো হলো:

  • ১. আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করবেন সে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটা নাম নির্বাচন। আর সে নামটাকে বলে ডোমেইন। নাম নির্বাচনের পর আপনাদে কোনো ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি থেকে কিংবা ডোমেইন রেজিস্ট্রার কোম্পানি থেকে সেটা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে! 
  • ২. নাম নির্বাচনের পর আপনি ফ্রিতেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন, আবার হোস্টিং কিনেও করতে পারবেন।
  • ৩. আপনি হোস্টিং বা স্পেস কিনবেন নাকি ফ্রিতে করবেন সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আপনাকে হয় ফ্রিতে ব্লগস্পটে সাইট করতে হবে! অথবা ওয়ার্ডপ্রেসে করতে চাইলে হোস্টিং কিনতে হবে! আপনি চাইলে একই কোম্পানি থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং একসাথে কিনতে পারেন! ডোমেইন ও হোস্টিং একসাথে কেনার বেস্ট বাংলাদেশি কোম্পানি হলো- ইবিএনহোস্ট [আপনি এখান থেকে বিকাশ / রকেট / নগদ দিয়েই ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে পারবেন!]
  • ৪. ফ্রি বা পেইড যেটাই হোক তার পর আপনাকে একটা থিম নির্বাচন করতে হবে।
  • ৫. তার পর ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।
  • ৬. ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আপনাকে কন্টেন্ট লিখতে হবে।
  • ৭. আপনার ওয়েবসাইটর এসইও করে ট্রাফিক আনতে হবে।
  • ৮. গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করা।

আরও পড়ুন: লক করা ফোন থেকে ব্যাক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করুন

আমরা স্টেপগুলো জানলাম কিন্তু বিস্তারিত জানতে হলে নিচের অংশ টুকু মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন-

কীভাবে ব্লগিং শুরু করবেন : স্টেপসমূহ

১. ডোমেইন নেম নির্বাচন:

একজন ব্লগার হিসেবে আপনাকে নাম নির্বাচনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ টি সুন্দর ভাবে করতে হবে। আপনি চিন্তা করলেন ব্লগিং শুরু করবেন কিন্তু কি বিষয় নিয়ে শুরু করবেন ভাবছেন?

যদি ভেবে থাকেন তাহলে তার উপর ভিত্তি করে নাম নির্বাচন করুন। আর সে নাম টা কে ইংরেজি তে ডোমেইন বলে। আর  ডোমেইনের উপর ভিত্তি করে আপনার ওয়েভসাইট টি অনেকাংশে নির্বর করে। তাই ডোমেইন নির্বাচনের আগে আপনি ভাবুন কি নিয়ে কাজ করতে চান,কোন টপিক আপনার সহজ লাগে বা ভাল লাগে আর সেটা নিয়ে আপনি কেমন বা কত টুকু জানেন। সে বিষয়ে আপনি কতটুকু পারদর্শী আছেন সেটা। কারণ একটা বিষয়ে যাদি আপনি বেশি কিছু না জানে না সে বিষয় নির্বাচন করে বসলে তাহলে কিন্তু বেশি দূর যাওয়া যাবে না কারন আপনও ব্লগিং টা করতে চাচ্ছেন দীর্ঘ একটা সময় জুড়ে আর তাই সে বিষয়ে ধৈর্য ও জ্ঞান থাকতে হবে, তা না হলে সেটা নিয়ে কাজ করা যাবে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়,আমি এডুকেশন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি এখন আমি যদি টেকনোলজি নিয়ে শুরু করি তাহলে কিন্তু হলো না কারণ টেকনোলজি নিয়ে আমি হয়ত ৬ মাস কাজ করলাম তার পর কিন্তু একটা বিরক্তি চলে আসবেই এ ছাড়াও টেকনোলজিতে আমার জ্ঞান কম, যত টা এডুকেশনে আছে তাই আমাকে এডুকেশন রিলেটেড ডোমেইন সিলেক্ট করতে হবে।

২. হোস্টিং নির্বাচন:

ডোমেইন নির্বাচন করা ত হল, এখন হোস্টিং নির্বাচন করা। হোস্টিং কি জানেন? হোস্টিং হল আপনার ওয়েভসাইট টি ডিজাইন বা অন্যান্য কন্টেন্ট বা ছবি রাখার জন্য একটা জায়গার দরকার হয় সেটা।এখন আপনি আপনার বাজেট ও কাজের ধরন অনুযায়ী হোস্টিং নিবেন।ধরুন আপনি একটা নিউজ সাইট তৈরি করবেন এজন্য কিন্তু হোস্টিং বেশি লাগবে কারন কি জানেন?কারন হল নিউজ সাইটে প্রতিদিন অনেক কন্টেন্ট আপলোড করা হয় এছাড়াও অনেক ফটো বা ভিডিও রাখা হয় যে কারনে আপনার স্পেস একটু বেশি লাগবে তাই সে অনুযায়ী কিনতে হবে।

আচ্ছা হোস্টিং যদি আবার না কিনতে চান তাহলে?হ্যাঁ আরেকটা উপায় আছে যেখানে আপনি হোস্টিং ছাড়াই কাজ করতে পারবেন সেটা কি জানে   Blogger. আপনি হোস্টিং না কিনতে ব্লগারে কাস্টম ডোমেইন এড করতে পারবেন এতে করে আপনার হোস্টিং খরচ টা বেচে যাবে।

৩. থিম নির্বাচন:

আপনার ওয়েবসাইটটা কেমন হবে বা দেখতে কেমন দেখা যাবে সেটা নির্ভর করে থিমের ওপর। থিম হলো একটা ওয়েবসাইটের গঠন বা সৌন্দর্য নির্ধারক। আপনি কি থিম ব্যবহার করবেন সেটার ওপর নির্ভর করবে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট।আপনি চাইলে ফ্রি অথবা পেইড থিম ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রি ব্যবহার করলে সেটা একটু কম সুন্দর আর পেইড ব্যবহার করলে একটু বেশি সুন্দর লাগবে। এসইও ফ্রেন্ডলি থিম নির্বাচনের চেষ্টা করবেন। ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য থিম আর ব্লগারের জন্য কিন্তু টেম্পলেট বলা হয়।

৪. ওয়েবসাইট ডিজাইন:

এখন ডোমেইন হোস্টিং আর থিম নেওয়া হলো! এরপর কাজ হলো ওয়েবসাইট ডিজাইন করা। আপনি যদি ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারেন তাহলে তো ভালোই আর যদি না পারেন তাহলে একজন ডেভেলপারকে দিয়ে ডিজাইন করে নিতে পারেন! আর তাও যদি না পারনে তাহলে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিয়ো আছে সেগুলো দেখার পর আপনি নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

এবার কথা হলো আপনি ওয়েবসাইটটি কীভাবে করতে চাচ্ছেন? ওয়ার্ডপ্রেসে, ব্লগারে, উইক্সে বা কাস্টম কোড বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে?

আপনি কীভাবে ডিজাইন করবেন তার ওপর নির্ভর করছে। তবে বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং ওয়েবসাইট করার জনপ্রিয়তা অনেক! বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং ওয়েবসাইট রয়েছে আর প্রতি সেকেন্ড ১৭ টা করে পোস্ট পাবলিশ হচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয়তা এই কারণে বেশি যে, এর ডিজাইন খুব সহজে সুন্দর করে করা যায়, যেকোনো কিছু নতুন আনতে হলে প্লাগিন ব্যবহার করা যায়, আবার এর ব্যবহার টা অন্যান্য ওয়েবসাইটের চেয়ে একটু সহজ। তাই মানুষ ওয়ার্ডপ্রেসকে বেছে নেয়।

আপনি চাইলে ব্লগারেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এতে করে আপনার হোস্টিং খরচ লাগবে না। ফ্রি টেম্পলেট দিয়ে সুন্দর করে সাইট করতে পারবেন। আর ব্লগারের অসুবিধা হলো এর ফাংশনালিটি একটু কম তাই এটা অনেকেই প্রেপার করে না। এছাড়া আপনি কাস্টম কোডিং  এও সাইট করতে পারবেন যেটা অনেকটা সময় লাগবে এবং পজিটিভ দিক হলো এটার ব্যবহার অন্যান্যগুলোর থেকে একটু ভালো। এছাড়াও আরও অনেকভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়! যে যেভাবে ভালোবাসে সেইভাবে তৈরি করতে পারবে!

৫. কন্টেন্ট রাইটিং:

ওয়েবসাইট সুন্দর ভাবে তৈরি করা হলো! এখন আপনার কন্টেন্ট লেখার পালা। আপনি যে নিশ বা টপিক নিয়ে কাজ করবেন সেটার ওপর নির্ভর করে কন্টেন্ট লিখবেন। আপনি যদি অর্গানিক ভাবে ভিজিটরস পেতে চান তাহলে এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লিখতে হবে আর এজন্য আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে।

কিওয়ার্ড কী: কিওয়ার্ড হলো একটি সার্চিং ওয়ার্ড যে ওয়ার্ড দিয়ে ভিজিটরসরা গুগলে সার্চ দেয়।

তাই আপনাকে খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে ভিজিটরসরা কি দিয়ে সার্চিং করছে গুগলে; মানে কিওয়ার্ডটা কী! সে কিওয়ার্ড দিয়েই আপনাকে কন্টেন্ট লিখতে হবে। এতে করে আপনি অটোমেটিক্যালি ভিজিটরস আনতে পারবেন।

৬. ভিজিটরস আনা:

ওয়েবসাইট তৈরি করলেন, কন্টেন্টও লিখলেন। এরপর কাজ কী জানেন? – ভিজিটরস আনা। আর এরজন্য আপনাকে এসইও করতে হবে এবং আপনার ব্লগের মার্কেটিং করতে হবে দারুণভাবে।

এসইও: এসইও অনেক জন অনেক ভাবে করে তাই আপনাকে এসইও শিখতে হবে।

মার্কেটিং: আপনার ব্লগে ভিজিটরস আনার জন্য এসইওর পাশাপাশি অন্যান্য মার্কেটিংও করতে হবে; কারণ বিভিন্ন ওয়েতে মার্কেটিং করলে মানুষ আপনার ব্লগ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং এর ফলে ব্লগে একটা ভালো পরিমাণ ভিজিটরসও আসবে মার্কেটিং থেকে।

৭. গুগল অ্যাডসেন্স এ অ্যাপ্লাই করা:

আপনি সব কিছু ঠিকটাকভাবে করলে অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন। আর অ্যাপ্লাই করার পূর্বে অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাই রুলস গুলো পড়ে সে অনুযায়ী কাজ করবেন, তা হলেই হবে। আর এভাবেই আপনি স্টেপ বাই স্টেপ কাজ শুরু করতে পারেন। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে গুগল আর ইউটিউব তো আছেই।

আপনার জন্য শুভ কামনা রইল! 

 

ভালো লাগলে শেয়ার করুন: