কোর্স করে কি লেখালেখি শেখা যায়?

কোর্স করে কি লেখালেখি শেখা যায়?

লেখালেখি মস্তিষ্কগত ব্যাপার! এটা ভেতর থেকে আসতে হয়! কেউ কাউকে হাতে কলমে কখনো লেখালেখি শেখাতে পারে বলে আমাদের মনে হয় না! অনেকে কোর্স করে লেখালেখি শিখতে চান! আসলেই- কোর্স করে কি লেখালেখি শেখা যায়? এই প্রশ্নের সুন্দর ও গুছানো উত্তর দিয়েছেন; লেখক, সম্পাদক ও প্রচ্ছদকার – সুলতান আজম সজল ভাই! চলুন তার লেখাটি পড়া যাক!

কোর্স করে কি লেখালেখি শেখা যায়?

লেখালেখি শেখার জন্য তো কোর্স করানো হয় না। লেখার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য করানো হয়। লেখালেখি সৃজনশীল ব্যাপার। মানে, ব্যক্তিগত চিন্তা, চেতনা ও ভাবনার ফলাফল।

যখন আপনি কোনো কোর্স করবেন, তখন এই ব্যক্তিগত চিন্তা, চেতনা ও ভাবনা পরিবর্তন করার জন্য কিন্তু করবেন না। আপনি করবেন, কীভাবে আরও ভালোভাবে চিন্তা করা যায়, ভাবা যায় কতটা আলাদাভাবে, চেতনাকে আরও কীভাবে জাগ্রত করা যায়।

লেখালেখির কিছু কমন উপাদান আছে। যেমন, সেটিং, ফর্ম, স্টাকচার, ডায়লগ, প্লট, থিম, সাসপেন্স, কনফ্লিক্ট, ক্লাইম্যাক্স, প্রোটাগনিস্ট, অ্যান্টাগনিস্ট ইত্যাদি।

সবাই জন্মগতভাবে এগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার করার প্রতিভা নিয়ে জন্মায় না। তাই অধিকাংশই জানে না তার প্লটটাকে কোন সেটিংস, স্ট্রাকচারে দাঁড় করাতে হবে, কীভাবে ডায়লগ থ্রো করলে প্লটকে আরও ভালোভাবে এক্সপোজ করা যাবে, কখন ক্লাইম্যাক্স আনতে হবে, সাসপেন্স কীভাবে তৈরি করতে হয়।

আরও পড়ুন: বই এবং বই পড়া!

এসব ব্যাপার সাধারণত কোর্স করলে জানা যায়। কিন্তু প্রয়োগ করার ব্যাপারটা নিজের ওপরেই নির্ভর করবে। আর এটাই মূলত সফল আর ব্যর্থ লেখকের পার্থক্য গড়ে দেয়।

আগে লেখক-কবিরা একসাথে আড্ডা দিতেন। একে-অপরের সাথে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। নবীনদের ধরে ধরে শেখাতেন। এখন তো শেখানো তো দূরের ব্যাপার, গ্রুপিং আর চুলোচুলিতেই ব্যস্ত। তাই আর কী করার, ওই কোর্স করবেন। শিখবেন, জানবেন আর প্রয়োগ করবেন।

প্রচুর বই পড়ার বিকল্প কখনই ছিল না, আগামীতেও থাকবে না। আর প্রচুর বই পড়ার অর্থ এই না যে, কেবল ফিকশন পড়বেন। সেই সাথে আপনাকে নন-ফিকশনও পড়তে হবে। কেন? ধরুন, আপনি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখবেন। এখন ইতিহাস কোথা থেকে জানবেন? গল্প-উপন্যাস পড়ে? উঁহু, ইতিহাসের বই পড়ে।

আবার এক লেখকের বই টানা পড়া যাবে না। এতে লেখালেখিতে তার লেখার টোন অবচেতনভাবেই চলে আসবে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা বই পড়তে হবে।

পাঠকের স্বাধীনতা আছে তার যে জনরায় খুশি সে জনরার বই পড়ার। কিন্তু একজন লেখকের এই অপশনটা নেই। তাকে যদি ভালো লিখতে হয় তাহলে তার অপছন্দের জনরার বইও পড়তে হবে নিজেকে শাণিত করতে।

এজন্যই বলা হয়, প্রচুর পড়তে হবে। বলা হয় না, অমুক অমুক বই পড়লেই হবে।

লেখালেখির কোর্সগুলো আপনাকে শাণিত করবে এটা ঠিক, কিন্তু শাণিত হবার পর ধারে কাটবেন নাকি ভারে—সেটা আপনার ওপরেই নির্ভর করবে।

লেখা: সুলতান আজম সজল

*****

আশা করি এই লেখাটি পড়ে আপনাদের লেখালেখির কোর্স করা বিষয়ে অনেকটা ধারণা হয়ে গেছে! লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন! আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Comment