সোশ্যাল মিডিয়া

বাস্তব সম্পর্কের গুরুত্ব ইন্টারনেটের ছেয়ে অনেক বেশি

আজ একটা গল্প বলব সেটা হল, “বাস্তব সম্পর্কের গুরুত্ব ইন্টারনেটের ছেয়ে অনেক বেশি”।একজন স্কুল শিক্ষিকা একদিন রাতে তার ডিনাার শেষ করে তার ছাত্র ছাত্রীদের পরিক্ষার খাতা দেখছিলেন এবং শিক্ষিকার স্বামী তার পাশে বসেই মোবাইল ফোনে ফেইসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো হঠাৎ করে তিনি খেয়াল করলেন যে তার স্ত্রী কাদতেছে।স্ত্রী কে জিজ্ঞাসা করলেন,এই তুমি কাদছো কেনো?

স্ত্রী উত্তর দিলেন,গতকালকে আমার ছাত্র ছাত্রী দের কে বলেছিলাম “আমার ইচ্ছে” শিরোনামে একটি রচনা লিখতে।সেখানে সবাই খুব সুন্দর সুন্দর ইচ্ছের কথা লিখেছে। কিন্তু  একটি খাতা দেখে আমার চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না।তার স্বামী চ্যাটিং এর পাশাপাশি স্ক্রিনে চোখ রেখেই বললেন,”তোমার ছাত্রীর এমন কি ইচ্ছের কথা লিখছে যা দেখে তোমার চোখে জল এলো? শিক্ষিকা বললেন আমি ওর লেখা পরে শুনাচ্ছি প্লিজ তুমি মোবাইল ফোন টা কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ রাখো। বেশ অনিচ্ছায় নিয়েই তার স্বামী মোবাইল ফোন বন্ধ করে স্থীর দিকে থাকালো তার পর শিক্ষিকা খাতাটি পরতে শুরু করলো।

খাতায় লিখেন,”আমার প্রিয় বাবা মা আমার থেকে তাদের স্মার্ট ফোন কে অনেক বেশি ভালোবাসে কারন তারা তাদের স্মার্ট ফোনের প্রতি এতোই যত্নশীল যে মাঝে মাঝে তারা আমার কথাই ভুলেই যান।আরও লিখেন যে, যখন তারা কাজ করে বা  তখন অফিস বা বন্ধু/আত্নীয়স্বজনরা কেউ ফোন করলে তারা সেই ফোন রিসিভ করে এবং সুন্দর ভাবে কথা বলে। কিন্তু আমি ডাকলে বা কিছু বললে কোনো সারা শব্দ করে না। এমন কী আমি কাঁদলেও অনেক সময় তারা তাদের ফোনের গেইমস,ফেইসবুক কিংবা বন্ধুদের সাথো অনলাইনে আড্ডা দেয়।কিন্তু তারা কখনও আমার সাথে খেলে না বা কথা বলে না। যখন তারা ফোনে কথা বলে তখন তারা আমার কথা শুনে না এমন কী আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বললেও না।এক কথায় তাদের কাছে আমি কিছুই না।আমার থেকে স্মার্ট ফোন টাই অনেক ভ্যালো।আমার ইচ্ছা আমি যদি একটা স্মার্ট ফোন হতাম।তাহলে হয়ত সারাক্ষন আমার বাবা মায়ের সাথে থাকতে পারতাম তাদের খেলা ধুুলা করতে পারতাম।

শিক্ষিকার পড়া শেষ হলে,স্বামীটি তার চোখ মুছতে মুছতে তার স্থী কে জিজ্ঞেসা করলো কে লিখেছে এই ইচ্ছের কথা  টা, আর তার নামই বা কী?স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল এটি লিখেছে, আমাদের একমাত্র ছেলে রাজু, সেও তো আমার ক্লাসের ছাত্র।এই কথা শুনে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরলো স্বামীর আর হাত থেকে মুটো ফোনটি মেছেতে পরে গেলো।এর পর তারা দুইজনেই তাদের ছেলের ঘরে গেলেন এবং ছেলের দিকে তারা কেউই কিছু মুখে না বললেও তাদের ঘুমন্ত সন্তানের দিকে তাকিয়েই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন  যে আজ থেকে তাদের সন্তান তাদের কাছে সবার আগে, পৃথিবীর সব কিছুর আগে তাদের ছেলে।কারন এ স্মার্ট ফোন এসেছে আমাদের জীবন কে সহজ করতে করতে এখন আমাদের জীবন কে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলছে।ইন্টারনেট বা আমাদের স্মার্ট ফোন এসেছে আমাদের জীবন পরিবর্তন করতে।অথচ আমরা এর খারাপ দিকটি গ্রহন করছি।তবে এখনো আমাদের সময় আছে,আমাদের আসল পরিবার পরিজনের কাছে ফিরার।পুরোনো দিনের মতো সবাই মিলে সুন্দর করে বেচে থাকার।চিন্তা  করুন যখন কম্পিউটার ইন্টারনেট ছিলো না,তখন সময় টা কেমন ছিল?সবাই মিলে কতই না সুন্দর সময় কাটানো হয়েছিলো।

তাই এখনই আসল পরিবর্তন আনার সময়,আপনার গুরুত্বটা স্মার্ট ফোন থেকে কমিয়ে আনুন এবং আপনার পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবিদের সময় দিন। আপনার যদি সন্তান থাকে তাহলে আপনার সন্তানদের জন্য ভালো দৃশ্যস্থাপন করান,কারন সন্তানরা তাদের মা বাবা কেয় অনুসরন করে।তাই সময় টা অনলাইনে না দিয়ে তাদের কে দিন।নিজের বাবা মা ও ছেলে মেয়েদের সময় দিন তা না হলে এমন এক দিন সময় আসবে যে আপনি বৃদ্ধ হলে আপনাকে রেখেও তারা তাদের টাইম টা অনলাইনে দিবে সো প্রকৃতির খেলা টা ত আর বোঝা যায় না তাই সময় থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করুন।

প্রিয়জনের খোজ খবর নিন পরিবারকে ভালোবাসা দিলে নিজেও পরিবার কাছ থেকেও অনেক ভালোবাসা পাওয়া যাবে আপনার ফোন আপনাকে সুবিধা দিতে পারবে কিন্তু আপনার ফোন কী কখনো আপনাকে প্রিয়জনের মত করে ভালোবাসা দিতে পারবে?আসুন আমরা কৃত্রিম জিনিস এর পিছনে না ছুটে  নিজের পরিবার পরিজন ও প্রিয়জন কে সময় দেই এবং আমাদের বন্ধন গুলো কে ধ্বংশ না করি।ভালবেসে নতুন জীবন শুরু করি।আগামী দিনের পথ চলার জন্য।

Leave a Reply

Back to top button