লাইফ ও ক্যারিয়ার

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত

সময় পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে সবকিছুই যেন পরিবর্তন হচ্ছে। আগেকার দিনের সমাজ সংসারের যেমন অবস্থা ছিল এখনকার সময়ে সেটা আর দেখা যায় না।

আগেকার দিনে দেখা যেত আমাদের দাদা দাদিরা তাদের স্বামীর নাম মুখে নিত না কারণ তারা ভাবতো এতে করে স্বামীর প্রতি সম্মান এর একটু অমর্যাদা হচ্ছে। যদিও এটি একটি কুসংস্কার কিন্তু একটু ভাবুন তো চিন্তা ধারা ভাবনাটা কিন্তু সম্মানের।তারে আগেকার দিনে স্বামীরা তাদের স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে অনেক বেশি সম্মান এবং আদর যত্ন করত।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে অনেক বয়স্ক মহিলাদের কে দেখা যায় সংসার জীবনের একেবারে শেষের দিকে এসে স্বামীর সাথে শুধু শুধু চিৎকার এবং চেঁচামেচি করে যাওয়া তার কাছে অসহ্য মত লাগে।আর এক সময় যে স্বামীর কথা কত বছর আগেও মধুর মতো লাগত, আজ সেই স্বামীর কথাই তাদের কাছে বিষের মতো মনে হয়।যদি তাদের স্বামী ভালো বললে তাদের কাছে অনেক বাজে কিছু মনে হয়। আর এর পেছনে যে অনেক অতীত থাকে তা অনেকেই বুঝতে চায় না বা বুঝতে পারেনা। তবে একটু ভাবুন ত,জীবনের শেষদিকে এসে একজন স্বামী তার স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে।যৌবন লগ্নে কি তিনি এতটুকু নির্ভরশীল ছিলেন?

তবে আমাদের সমাজে একটা বিষয় কিন্তু দেখা যায় সেটা হল, বিয়ে ভালোবেসেই হোক অথবা বাবা মায়ের পছন্দে হোক না কেন, বিয়ের কিছুদিন যাওয়ার পর পরই স্বামী তার আসল রূপ টি দেখাতে শুরু করে।শুধু শুধু স্ত্রীকে বকাঝকা করা কিংবা মারধোর করা কিংবা অন্যদের সামনে তার স্ত্রীকে ছোট করা। স্ত্রীর হাজারটা গুণ থাকা সত্বেও তা না দেখে আংগুল দিয়ে তার দোষগুলো দেখা।তখন তারা স্ত্রীকে মনে করে কেবল বিছানার সঙ্গী এবং বাচ্চা জন্মদানকারী একটি মেশিন। নিজেদের উপার্জনের অর্থ কেবল নিজের সুখ এবং সন্তানদের আহ্লাদে খরচ করা। অথচ স্ত্রীর জন্য সামান্য খরচ করা পৃথিবীর ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না অনেক সময়।আবার অনেক সময় স্ত্রীর সাথে দুটো কথা বলাও ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।শুধু তারা নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখে বিভিন্ন কাজকর্ম,কখনো একটু মন ভালো করার জন্য কোন বাইরে নিয়ে যেতে চায় না,ভাল কোন খাবার খাওয়াতে চায় না।

স্ত্রীর কোন মতামতকে মূল্যহীন ভাবা,যা আমাদের সমাজের প্রত্যেকটা পুরুষের এমন কিছু আচরণগত সমস্যা রয়েছে।কোন স্ত্রী যদি কোন কাজ ঠিক বা সুন্দর মত করতে না পারে তো তখন বউ হয়ে যায় পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে অকর্মা মানুষ। মনে হয় যেন স্ত্রী হয়ে জন্ম নেওয়া পৃথিবীর মধ্যে সবকিছু তার জানতে হবে করতে হবে বা পারতে হবে, মনে হয় যেনো বউ মানেই কোন এক ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী। অথচ সে কাজটি যদি কোন এক পুরুষ না পারে তাহলে সেক্ষেত্রে কোন কিছু যায় আসে না।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে বাবা মা ভাই বোনদের জন্য।স্বামীর দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী কে অনেকেই তার পরিবারের কাছে অত্যাচার নির্যাতন করেছেন আর কোন এক সময় সেটা তার স্বামীর ভালবাসার বিপরীতের রূপ হিসেবে কাজ করে।

তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত আমাদের সমাজের প্রত্যেকটা নারীর প্রতি যতেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া এতে করে কিন্তু আমাদেরই লাভ।কিন্তু এখন বলতে পারেন, এখানে লাভের কথা বললাম কেনো?
একবার ভাবুন একটু চিন্তা করুন, আপনার পরিবারেরও কিন্তু আপনার বোন আছে, ফুপু,খালা আছে তারাও ত নারী।কোন একটা পর্যায়ে তারা যদি এসব অন্যায় অত্যাচারের থাকেন তাহলে আপনার কেমন লাগবে?
উত্তর টা নিজেই নিজেকে দিবেন।তাই আমাদের উচিত নারী আর পুরুষ যাই হোক না কেনো কোন ভেদাভেদ না রেখে প্রত্যেকের প্রতি যতেষ্ট সম্মানবোধ রেখে সংসার জীবনে এগিয়ে যাওয়া।

Leave a Reply

Back to top button