সাহিত্য

হাসতেই চাই,কারণ হাসিতেই আনন্দ

রহস্যময় পৃথিবীর চাওয়া পাওয়ার নাগরদোলায় দুলতে দুলতে ক্লান্ত অবসন্ন মনে একটা কথাই মনে ভাবছি “হাসতে তো নেই মানা”! আমি কেন হাসি? কি করে হাসি? এই প্রশ্নের মুখোমুখি অনেকবার হয়েছি। অনেকেই বলতো এই মানুষটি নির্লজ্জ, ভালোও বুঝেনা মন্দও বুঝে না, সবকিছুতে ফাজিলের মত হাসে। আসলে সত্যি কথা বলতে কি অভিযোগ থাকলেই তো অন্তরে যন্ত্রণা বাড়ে। অনুভূতির এই কালা কানুন সম্পর্কে যখন থেকে একটু একটু করে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে ব্যক্তি ঈর্ষা, ব্যক্তি অভিযোগ, ব্যক্তি বিদ্বেষের মত কুৎসিত বিষয় থেকে মনকে দূরে সরিয়ে রেখেছি। অন্যের সুখে সুখী হতে পারার ‘কঠিনতম’ কাজের ঝুঁকি নিতে শুরু করেছি। আমি যখন থেকেই টের পেতে শুরু করেছি, চাইলে মনে মনে সুখী হওয়া যায়। তখন থেকেই আমি হাসতে শুরু করি। সব হাসি আনন্দের নয়, দু:খেরও হাসি আছে। যেমনি সব কান্না দু:খের নয়, আনন্দেরও কান্না আছে।

মানুষ মরণশীল।এই মরণশীল মানুষের শক্তি ও জ্ঞানের বিস্তার ও তাই অত্যন্ত সীমাবদ্ধ।মানুষকে মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় বেশি জ্ঞান দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে মানুষকে অসীম জ্ঞানের অধিকারী কখনো করা হয়নি ।এ পৃথিবীতে মহাবিশ্বের তুলনায় খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জীবন নির্বাহ করতে গিয়ে এবং সৃষ্টির ভিতর উদঘাটন করতে যে পরিমাণ জ্ঞানের প্রয়োজন ঠিক সে পরিমাণ জ্ঞানী মানুষকে সরবরাহ করা হয়েছে। এর বাইরে তাকে অসীম জ্ঞান দেওয়া হয়নি।এই চরম সত্যটি নতজানু হয়ে শিকার করে দুর্বার এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা।এখনও সকলের সুখে সুখী হওয়ার অভ্যাস আয়ত্ব করতে পারিনি, মানুষ তো আমি!! নির্লোভ, নিরহঙ্কার, নিঃস্বার্থ হওয়া কি অত সহজ? মনের অন্ধকার কোণে হতাশার ছাই মাঝে মাঝে মনের আকাশে উড়ে বেড়ায়। তবে যতখানি পেরেছি তার মূল্যও কম নয়। অভিযোগ গুলোকে অন্তরে দীর্ঘসময় রাখতে পারিনা, কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা মুহূর্তে ঝেড়ে ফেলতে পারি। চলতিপথে সংসার, সমাজ, দেশ কারোর বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। অভিমান থাকুক অন্তরে, অভিমান বুকে নিয়েও যে প্রাণ খুলে হাসা যায় কিন্তু অভিযোগ নিয়ে কী হাসা যায় ? কিন্তু আমি হাসতেই চাই, কারণ হাসিতেই আমার আনন্দ, হাসিতেই আমি ভালো থাকি।

লেখক ও সাহিত্যিক
ঢাকা- বাংলাদেশ।
১,জানু, ২০২০

 

লেখক পরিচিতিঃ-

নামঃমোহাঃখোরশেদ আলম বিপ্লব।
পিতার নামঃআব্দুল জলিল বেপারী।
মাতার নামঃ মোমেনা খাতুন।
(পিতা-মাতা দুজনই প্রয়াত)

জন্মঃপহেলা ডিসেম্বর ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানাধীন ১০ নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের সিপাই কান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

পড়াশোনাঃ

এস,এস, সি – মতলবগঞ্জ জে বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ( ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ )। মতলব, চাঁদপুর।
এইচ,এস,সি- সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ (১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ )।
বি,এস,এস- ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা (১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ)।

লেখালেখিঃ

তিনি ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে লেখালেখি শুরু করেন। ছোট গল্প-কবিতা ও উপন্যাস এর পাশাপাশি নাটক ও রচনা করেন।

প্রকাশিত বই সমূহঃ

➡️শেষ বিদায়ের অশ্রু-( উপন্যাস ) প্রকাশকাল- অমর একুশে বইমেলা ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ,
➡️চতুরঙ্গ প্রেমের ঢেউ- (কবিতা) প্রকাশকাল- অমর একুশে বইমেলা ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ,
➡️বান ডাকা জল – ( উপন্যাস ) – একুশে বইমেলা ২০১৯
➡️শেষ বিদায়ের অশ্রু-২ (উপন্যাস )- একুশে বইমেলা ২০২০
➡️রক্তে ভেজা শার্ট ( কাব্যগ্রন্থ ) – একুশে বইমেলা ২০২০।

এছাড়াও ৪ টি যৌথ কাব্যগ্রন্থ ও ৩ টি যৌথ গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও নাটক – সুখী মানুষ (১৯৯৩), ঘুন ধরা সমাজ (১৯৯৮) ও রক্তে ভেজা শার্ট ( ২০১৮), লালচুড়ি (২০২০) দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে ( ২০২০) ইত্যাদি।

প্রকাশিতব্য অন্যান্য বই সমূহঃ

লাল চুড়ি, রূপার স্বপ্ন ও নিশুতি রাতের পাখি ইত্যাদি।

লেখা লেখির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের​ সাথে জড়িত।

উপদেষ্টা – হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন মতলব উত্তর শাখা।
এছাড়াও তিনি চাঁদপুরস্হ চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমীর সাহিত্য বিষয়ক পরিচালক (২০০১৯-২০২০ খ্রিষ্টাব্দ )
ঢাকাস্থ সেবামূলক সংগঠন “আমরা রক্ত সন্ধানী” র উপদেষ্টা কেন্দ্রীয় কমিটি (২০২০-২০২১)

কর্ম প্রতিষ্ঠানঃ

বর্তমানে তিনি ঢাকাস্থ একটি বেসরকারি ( গার্মেন্টস বায়িং হাউস) প্রতিষ্ঠান এ কর্মরত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button